স্টাফ রিপোর্টার,১৯ জুন ২০২১(বিবিনিউজ): ঝিনাইদহে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের জমি দখল ও ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে অব্যাহত হুমকি দিচ্ছে চাঁদাবাজরা। এদিকে, পরিবারের পক্ষে করা থানায় চাঁদাবাজি মামলা তুলে নিতেও হুমকি দিচ্ছে চক্রটি। এ নিয়ে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি নিজের বসত ভিটা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসুন্ধি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা (অবঃ) সেনা সদস্য মোঃ হাফিজুর রহমানের কন্যা শাহানাজ পারভিন গণমাধ্যম কর্মীদের জানায়, আমার পিতা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য অবস্থায় আমার মাকে নিয়ে গ্রামে একা থাকেন। আমরা তিন বোন বিয়ের পর স্বামীর সংসার করছি। আর একমাত্র ভাই ঢাকায় চাকুরীরত। ফলে আমার অসুস্থ্য পিতা-মাতাকে নিয়ে একা বাড়ীতে থাকার সুযোগে গ্রামের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক মধু মোহন, উৎপল, আমাদের বসত ভিটা থেকে মধু মোহন জমি দখল নিতে না পেরে আমার পিতার নিকট ৫ লক্ষ টাকার চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দিলে ঘর বাড়ি ভেঙ্গে আমাদের গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করে দিবে হুমকি দেয়। পরে আমার পিতা ৬ এপ্রিল তারিখে কোর্টে একটি চাঁদাবাজি মামলা করে, যাহার জি আর মামলা নং- ২১২/২২১। আসামীরা পুলিশের কাছে ধরা পড়ার পর গত ২০মে দুপুর বেলা উক্ত মামলার সহযোগী হালিম, কামাল, জসীম, সোনালী, জায়েদ, রেজাউল, ইবরা এদের নেতৃত্বে শাতাধিক ভাড়াটিয়া লোক আমাদের বসত ভিটা ঘেরাও করে আমার পিতা মাতাকে মারতে আসে এবং আমার পিতার নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করা সহ দায়ের কৃত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। সেসময় আমাকে ও আমার ভাইকে খুন জখম করা সহ বাড়ী ঘর লুট পাটের ভয়ভীতি দেখায়। এরপর অন্য জায়গা থেকে লোক ভাড়া করে এনে মানব বন্ধনের নামে আমার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মিথ্যা কথা বলে বিভ্রান্ত করা সহ সম্মানহানী করে। গ্রামের মানুষদের বোঝাচ্ছে যে তারা কতটা ক্ষমতাশালী এবং আমার পিতা সহ আমাদের নাম ধরে মাইকিং করে চাপ সৃষ্টি করা মানে আমরা যাতে মামলা তুলে নিই। শহীদ শিকদার ও তার ছেলে এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে এসব করাচ্ছে।
শাহানাজ পারভিন আরো বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে যরা অপরাধ করবে, তাদের বিচার হবে। আমরাও আইনের উর্ধে নই। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলে আসল ঘটনা উম্মোচণ হবে।
তিনি জানান, আমাদের ২৫৮ নং মৌজায় ফুরসুন্ধিতে দাদার জমি (যার দাগ নং- ৪৬২), কামাল কাজী ভোগ দখল করে আছে, ২৫১ নং দাগটি কহিনুর ভোগ দখলে রেখেছে, ২৪২ নং দাগ আমেনার দখলে, ২৩৮ নং দাগ আছে হাসান ও মসলেমের দখলে, ৩৬৩ নং দাগ থেকে ৭০ হাজার টাকার গাছ বিক্রি করেছে হালিম ও রেজাউল। এই সব দাগের জমি গুলো আমি গত ৫ জুন আমিন নিয়ে পরিমাপ করি। দখলদার ব্যক্তিরা জমির মাপ মেনেও নেয় এবং আমরা জমিতে খুটি পুতে আসি। জমি মাপার ৪ দিন পর মাইকিং করে তারা জমি দখলের চেষ্টা করে। সম্প্রতি আমাদের উক্ত জমির উপর পূর্বের ন্যায় ইচ্ছামত রাস্তা ও ঘর নির্মান করেছে। উক্ত আসামীরা জামিনে এসে তাদের সহযোগী জসীম, হালিম, রেজাউল, কামাল, ইবরা ও সোনালী এরা জমি দখলদারদের বলেছে এই জমিতে আসলে মারপিট করে হাত, পা ভেঙ্গে দিবি। আমার পিতা একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে শেষ বয়সে এই প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের হয়রানীর কারণে মারা যায় তাহলে এই লজ্জা পুরো বাঙ্গালি জাতির।
শাহানাজ বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা (অবঃ) সেনা সদস্য হয়েও আমার পিতাকে অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন ও অপমানের শিকার হতে হচ্ছে। ভূমিদস্যুরা তার জমি যবর দখল করে নিচ্ছে, প্রভাব খাটিয়ে আমার পিতার সম্পত্তি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছে অনেকে। আমার একমাত্র ভাই গ্রামে আসতে পারেনা। আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতেও আমার পিতার উপর অন্যায়, নির্যাতন, অসম্মান সহ্য করবোনা। আমার পিতা সেনা গেজেটে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের সাথে কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
